রাতে কম্পিউটার ব্যবহার করলে কেন ঘুমের সমস্যা হয়?
ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি মস্তিষ্কের কার্যক্রমকে উত্তেজিত করে। ফলে ঘুমের সমস্যা হয়। বিশেষভাবে রাতে শোয়ার আগে কম্পিউটার, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার-ট্যাবলেট বেশি ব্যবহার করলে ঘুম আসতে দেরি হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব যন্ত্রপাতির কৃত্রিম আলো মস্তিষ্কের কিছু রাসায়নিক পদার্থের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে । ঘুমের জন্য দরকারি এসব রাসায়নিক পদার্থ আলোড়িত হয় বলেই মূলত এপাশ-ওপাশ ফিরে রাত কাটাতে হয়। আমাদের দেহঘড়ি নিয়ন্ত্রণ করে মেলাটোনিন হরমোন, যা ঘুমের আবর্তন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, কম্পিউটার-ট্যাবলেটের আলো মেলাটোনিনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। অ্যাপলাইড অ্যারগনমিক্স সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণার ফলাফলে জানা যায়, রাতে কম্পিউটার-ট্যাবলেটের উজ্জ্বল পর্দায় দুই ঘণ্টা কাজ করলে মেলাটোনিনের মাত্রা ২২ শতাংশ কমে যায়। রাতে যেকোনো কম্পিউটার ব্যবহারেও একই ফল লক্ষ করা গেছে। মেলাটোনিনের মাত্রা কমে গেলে শুধু যে ঘুমের সমস্যা হয় তা-ই নয়, মেদ-ভুঁড়ি বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য জটিল রোগ দেখা দেওয়ার ঝুঁকিও সৃষ্টি হয়। তাই বিশেষজ্ঞরা বলেন ঘুমের আগে কম্পিউটার ও স্মার্টফোন বন্ধ করে রাখাই ভালো ।
বিগ ব্যাংয়ের মুহূর্তটি কেমন ছিল?
বিজ্ঞানীরা বলেন এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড শুরু হয়েছিল 'বিগ ব্যাং' বা মহাবিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে। সে প্রায় পৌনে ১৪০০ কোটি বছর আগের ব্যাপার। মহাবিস্ফোরণের পর মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হতে থাকে। গ্রহ-নক্ষত্রগুলো একে অপরের থেকে দূরে সরে যেতে থাকে। এই সম্প্রসারণ এখনো চলছে । এখন এই সম্প্রসারণের পথ অনুসরণ করে পেছন দিকে যেতে থাকলে কি বিগ ব্যাংয়ের শুরুর বিন্দুতে পৌঁছানো যাবে? যদি তা সম্ভব হয়, তাহলে তো নিশ্চয়ই জানা যাবে বিগ ব্যাংয়ের সময় চারপাশে কী ছিল, সেই মহাবিস্ফোরণ কি মহাশূন্যেই ঘটেছিল? এইসব প্রশ্নটা খুব জটিল। কারণ, বিগ ব্যাং আসলে মহাশূন্যে ঘটেনি, বরং এটা স্বয়ং মহাশূন্যেরই বিস্ফোরণ!
যদি কেউ মহাবিশ্বের সম্প্রসারিত পথ অনুসরণ করে পেছন দিকে যেতে থাকেন, তাহলে একসময় একটা ছোট বিন্দুতে গিয়ে পৌঁছাবেন, সেখানে থাকবে শুধু একটা বিন্দু, মহাশূন্য বিলুপ্ত হবে! এটা কল্পনা করাও কঠিন। হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের বিজ্ঞানী দেবোরা সিজাকি একটা চমৎকার উদাহরণ দিয়ে ব্যাপারটা বুঝিয়েছেন (দেখুন, স্মিথসোনিয়ান সাময়িকী, ১ নভেম্বর, ২০১২)। ধরা যাক, একটা বেলুনে কালির ছোট ছোট ফোঁটা দিয়ে নীহারিকাপুঞ্জ আঁকা হলো। এবার বেলুনটি বাতাস দিয়ে ফোলালে বিন্দুগুলো (নীহারিকা, নক্ষত্রপুঞ্জ) দূরে দূরে সরে যেতে থাকবে। বেলুনের এই দ্বিমাত্রিক পৃষ্ঠতলেও কিন্তু আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারব না, প্রসারণ শুরুর বিন্দুটি কোথায়। বিগ ব্যাংয়ের শুরুর বিন্দুটা বের করাও তেমনি কঠিন। মহাশূন্য নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে, যার উত্তর পাওয়া মুশকিল। যেমন, বেলুন ফোলালে তো সেটা চারপাশের শূন্যস্থানে বাড়ে, তাহলে মহাবিশ্ব বাড়ছে কোথায়? প্রসারমাণ মহাবিশ্বের চারপাশে কী? বিজ্ঞানীরা বলেন, এসব প্রশ্ন আসলে প্রশ্নযোগ্যই নয়, তাই এসবের উত্তর জানতে চাওয়া বোকামি।
লিফটের তার ছিঁড়ে গেলে কী করবেন?
ধরুন, আপনি ৩০ তলা থেকে নামছেন, লিফটের তার ছিঁড়ে গেল। হু হু করে নিচে পড়ছেন। চার সেকেন্ডের একটু পরই আপনার বেগ হবে সেকেন্ডে প্রায় ৪০ মিটার, যা ঘণ্টায় ৯০ মাইলের সমান । আপনার ওজন যদি হয় ৬০ কিলোগ্রাম, তাহলে ভরবেগ দাঁড়াবে ৬০x৪০= 2400 কিলোগ্রাম-মিটার প্রতি সেকেন্ডে। মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ যেহেতু ৯.৮ মিটার প্রতি সেকেন্ড প্রতি সেকেন্ড, তাই প্রতি মুহূর্তে এই ভরবেগ বাড়তে থাকবে। অর্থাৎ, লিফটটা যখন মাটিতে আছড়ে পড়বে, তখন আপনার ওজনের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ওজনের ধাক্কা খাবেন। এমনকি আপনার মাথার ওজনের চাপে ঘাড় ভেঙে যাবে। পা ভাঁজ করে ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করেও লাভ হবে না। কারণ, পড়ন্ত শরীরের প্রচণ্ড ভরবেগ পা সইতে পারবে না। লাফ দিয়ে শূন্যে অবস্থানের চেষ্টাও বৃথা। কারণ, ঠিক কখন লিফট মাটিতে পড়বে, তা বোঝা মুশকিল । এ অবস্থায় সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে লিফটের মেঝেতে সটান শুয়ে পড়া, যেন শরীরের চাপ সবচেয়ে বেশি ছড়ানো স্থানে। পড়ে এবং শরীরের কোনো অংশকে যেন অন্য কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গের চাপ সইতে না হয় ।
ভিড়ের মধ্যে মুঠোফোনে কথা শুনবেন কীভাবে?
সাধারণত আমরা এক হাতে এক কান বন্ধ করে আরেক কানে মুঠোফোনে 'হ্যালো, হ্যালো, শুনতে পাচ্ছেন?' বলে চেঁচাতে থাকি। কিন্তু কাজ হয় না। ভিড়ের নানা জনের কথা আর নানা মাত্রার চিৎকারে কোনো কথাই শোনা যায় না। এর চেয়ে মুঠোফোনের যে অংশে আমরা কথা বলি (মাউথপিস), সেটা এক হাতে ঢেকে রাখলে অপর প্রান্তের কথা কিছুটা স্পষ্ট শোনা যাবে। ভিড়ের হইচইয়ের মধ্যেও বিশেষ কারও কথা শুনতে চাইলে সাধারণত মানুষের মস্তিষ্ক সেই ব্যবস্থা করতে পারে। কারণ, সে অন্য শব্দগুলোকে আলাদা করে ফেলে। পর্ব ৪তাই অসুবিধা হলেও মধুর ক্যানটিনের চায়ের আসরে দুই বন্ধু চুটিয়ে আড্ডা মারতে পারে। কিন্তু টেলিফোনে কথা বলতে গেলেই বিপদ। এর কারণ হলো, টেলিফোনের মাধ্যমে কথা আদান-প্রদানকে একেবারে সামনাসামনি দুজনের কথা বলার মতো অনুভূতি প্রদানের জন্য প্রকৌশলীরা বিশেষ ব্যবস্থা করেছেন। যে কথা বলছে আর সে যার কথা শুনছে, মুঠোফোন এই দুজনের শব্দ-সংকেতের মধ্যে নিপুণ সংমিশ্রণ ঘটায়। এটা করা হয়েছে এ জন্য যেন মুঠোফোনে কথা বলার সময় মনে হয় অপর প্রান্তের বন্ধু একেবারে সামনাসামনি কথা বলছে। ফলে ভিড়ের গোলমাল মাউথপিসের মধ্য দিয়ে ঢুকে অপর প্রান্তের বন্ধুর কথার সংকেতের সঙ্গে মিশে যায়, যা মস্তিষ্কের পক্ষে আলাদা করা কঠিন। সামনাসামনি কথা বলার সময় চারপাশের ভিড়ের গোলমাল চোখের সামনেই ঘটছে বলে মস্তিষ্ক তা আলাদা করে রেখে শুধু বন্ধুর কথাটায় মনোযোগ দিতে পারে। কিন্তু মুঠোফোনের সময় তা পারে না, কারণ দূরপ্রান্তের বন্ধুর কথা আর চারপাশের ভিড়ের হইচই মুঠোফোনের ভেতরে ঢুকে একসঙ্গে মিশে মিশ্রিত শব্দ হিসেবে আমাদের কানে পৌঁছায়। এই অবস্থায় যদি মাউথপিস হাত দিয়ে ঢেকে রাখা হয়, তাহলে চারপাশের গোলমাল মুঠোফোনে ঢুকতে পারে না। তখন অপর প্রান্তের কথা মোটামুটি স্পষ্ট শোনা যায়।
আমরা কি সত্যিই মস্তিষ্কের মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহার করি?
প্রচলিত এ ধারণাটি কিন্তু ভুল। বলা হয়, মানুষের মস্তিষ্কের ক্ষমতা এত বেশি যে আমরা এর মাত্র ১০ শতাংশও ব্যবহার করতে পারি না। আসলে চিন্তাভাবনা ও বিভিন্ন কাজে মস্তিষ্কের পুরোটাই ব্যবহার করতে হয়। তাহলে ১০ শতাংশের কথাটা এল কোথা থেকে? এটা আমাদের সাধারণ কিছু ঘটনার ভিত্তিতে সৃষ্ট ধারণা মাত্র। আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখি, মাথায় বড় আঘাত পেলেও একজন মানুষ হয়তো সুস্থ হয়ে ওঠে এবং আগের মতোই স্বাভাবিক কাজকর্ম করে। এ থেকে ধারণা করা হয় যে মানুষ হয়তো মস্তিষ্কের সামান্য অংশই ব্যবহার করে, যে কারণে এর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অসুবিধা হয় না।কুকুরের লেজ সোজা হয় না কেন? কিন্তু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে, কখনো মাথায় আঘাত পাওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠলেও কিছু সমস্যা থেকে যায়। হয়তো স্মরণশক্তি কমে যায় বা কথা জড়িয়ে যায়। এসব সমস্যা হয়তো আমরা লক্ষ করি না। এখন পজিট্রন এমিশন টমোগ্রাম (পিইটি) স্ক্যানের মাধ্যমে মস্তিষ্কের সক্রিয়তা পর্যবেক্ষণ করা যায়। স্ক্যানে দেখা গেছে, মাথা খাটিয়ে কাজ করার সময় শত শত কোটি মস্তিষ্ককোষ উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। সব চিন্তা বা কাজে সবগুলো কোষ একসঙ্গে সক্রিয় হয় না বটে, তবে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিন্ত হয়েছেন, মস্তিষ্কের কোনো অংশই অব্যবহৃত থাকে না বা অপ্রয়োজনীয় নয়।
বিঃদ্রঃ উপরের তথ্যগুলো বিজ্ঞানের রাজ্যে শত প্রশ্ন বই থেকে নেওয়া।
সংগ্রহীতঃ বই: বিজ্ঞানের রাজ্যে শত প্রশ্ন।
লেখক: আব্দুল কাইয়ুম
প্রকাশকাল: ২০১৩
সর্বশেষ প্রকাশ: ২০১৯
এই বইয়ের আরও প্রশ্নের উত্তর পরবর্তী আর্টিকেলে দেওয়া হবে। পরবর্তী পর্ব
পরবর্তী আর্টিকেলে যা থাকছে-
☞ মস্তিষ্ক কি আপনাকে ফাঁকি দেয়?
☞ কাচ স্বচ্ছ কেন?
☞ সাদা চিনির চেয়ে কি ধূসর চিনি ভালো?
☞ মেয়েরা লিপস্টিক পরে কেন?



.png)

Thanks for comment.....!