মস্তিষ্কের কাজের জন্য কত ওয়াট শক্তি দরকার?
টিমটিমে আলোর জন্য একটা ১২ ওয়াটের বালের যতটুকু শক্তি লাগে, সেই সামান্য শক্তিই মানুষের মস্তিষ্কের অসাধারণ কাজ করার জন্য যথেষ্ট। মাত্র দুটি সাগরকলাতেই রয়েছে। মস্তিষ্কের সারা দিন ধরে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি। মানুষের মস্তিষ্ক সমস্ত শরীরের। ওগুলো মাত্র তিন শতাংশ। কিন্তু সে শরীরের মোট শক্তির প্রায় ১৭ শতাংশ ব্যয় করে । শক্তি বায়ের অনুপাতটা একটু বেশি। কারণ মস্তিষ্ক কাজ না করলে তো শরীর চলবে না। তার মানে এই নয় যে, পরীক্ষার পড়া তৈরি করতে বেশি বেশি খেতে হবে। সেটা হয়তো কিছুটা দরকার। তবে মনে রাখতে হবে যে, মস্তিষ্কের বেশির ভাগ শক্তি ব্যয় হয় স্বায়ুকোষ (নিউরন) ও স্নায়ুকোষগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী ঝিল্লির রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রকে চিন্তা-ভাবনার জন্য সদা প্রস্তুত রাখার জন্য।
হাড় কাঁপানো শীতে মৃত্যু হয় কেন?
মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। মুসফুস, হৃৎপিত, কিডনি, লিভার, পাকস্থলীসহ শরীরের সব কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য এই তাপমাত্রা ঠিক রাখতে হয়। মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস নামের অংশটি শরীরের অভান্তরের এই নির্দিষ্ট তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, যেন সবকিছু ঠিকঠাকমতো চলে। ভাত-মাছ, শাকসবজি থেকে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি বা জ্বালানি সঞ্চয় করে, যা পুড়িয়ে শরীর তাপ পায়। খুব বেশি শীতের জন্য যদি শরীরের ভেতরের অংশের তাপমাত্রা (কোর টেম্পারেচার) ১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের (৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) নিচে নেমে যায়, তাহলে তাকেবল প্রয়োগ করা হলেও কিছু ক্ষেত্রে কাজ হয় না কেন? হাইপোথার্মিয়া বলে। অপুষ্টির শিকার গরিব-দুস্থ মানুষ তীব্র শীতের সময় খুব সহজেই হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হয়। এ সময় শ্বাস-প্রশ্বাস, রক্তচলাচল প্রভৃতির গতি কমে যায়, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হলে ঠান্ডার অনুভূতিও নষ্ট হতে পারে, কারণ মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। এ জন্যই এটা বিপজ্জনক। মৃত্যু যে ঘনিয়ে আসছে, তা টেরও পাওয়া যায় না। এ সময় হাত-পায়ের পাতা ও চামড়ার রক্তনালিগুলো সরু হয়ে আসে, যেন বাইরের দিকে রক্ত সরবরাহ কমিয়ে শরীর হৃৎপিত-ফুসফুস সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় রক্ত সরবরাহ করতে পারে। এ জন্যই খুব ঠান্ডায় হাত-পা জমে যায়, শরীরে কাঁপুনি ওঠে। একসময় মানুষ চেতনা হারায়। হাইপোথার্মিয়া থেকে বাঁচার জন্য গায়ের ভেজা জামা- কাপড় খুলে কয়েক পরত কম্বল, চাদর জড়িয়ে থাকতে হবে। ঘরের দরজা-জানালা বহু রাখতে হবে। ঠান্ডা বাতাস যেন গায়ে না লাগে। অবস্থা বেশি খারাপ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
নলকূপের পানি ঋতুভেদে গরম ও ঠান্ডা হয় কীভাবে?
আমাদের অভিজ্ঞতায় জানি, নলকূপ বা চাপকলের পানি শীতকালে গরম ও গরমকাকে ঠান্ডা থাকে। আসলে পানির তাপমাত্রা একই থাকে, ঠান্ডা বা গরম মনে হয় আমাদের স্পর্শানুভূতির কারণে। চাপকলের পানি মাটির ভেতরে ৩৪ ফুট বা তার চেয়ে কিছু কম গভীরতায় থাকে। গভীর নলকূপের পানি আরও নিচে থাকে। বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্র মাটির ভেতরের পানির তাপমাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে না। তাই মাটির নিচের পানির তাপমাত্রা ঋতু পরিবর্তনের কারণে ওঠা-নামা করে না। একই থাকে। তাহলে ঠাণ্ডা। গরম মনে হয় কেন? এর কারণ হলো গরম কালে আবহাওয়া গরম থাকে বলে আমরা সেই গরম অনুভব করি। তখন নলকূপের পানি তুলনামূলকভাবে ঠাণ্ডা মনে হয়। বিপরীতে শীতকালে আবহাওয়া ঠান্ডা হয়ে যায় বলে মাটির নিচ থেকে উঠে আসা নলকূপের পানি গরম মনে হয়। ভূপৃষ্ঠের ওপরের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণেই এ রকম মনে হয়। যদি শীতকাল বা গরমকালে নলকূপের পানির তাপমাত্রা থার্মোমিটার দিয়ে মাপা হয় তাহলে দেখা যাবে পার্থক্য প্রায় নেই। গরম বা ঠান্ডা মনে হয় অনুভূতির পার্থক্যের কারণে।
গরম বাতাস ওপরে উঠে যায় কেন?
গ্যাস বেলুন ওপরে উঠে যায়। কারণ, বেলুনের ভেতরের গ্যাস বাতাসের চেয়ে হালকা। গরম বাতাসও স্বাভাবিক তাপমাত্রার বাতাসের তুলনায় হালকা বলে ওপরে উঠে যায়। হালকা অর্থ হলো এর ঘনত্ব কম। বেশি ঘনত্বের বস্তুর ওজন বেশি। কারণ, কোনো বস্তুর ঘনত্ব যত বেশি, পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি তাকে তত বেশি জোরে নিচের দিকে টানে। বেশি জোরে টানে বলেই এই বস্তুর ওজন বেশি। ঘনত্ব কম হলে তাকে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কম জোরে টানবে, ওজন কম হবে, হালকা হবে। কিন্তু গরম বাতাসের ঘনত্ব কেন কম? কারণ, বাতাসকে যখন তাপ দেওয়া হয়, তখন এর অণুগুলোর গতি বেড়ে যায়। ওরা ছুটোছুটি, করে একে অপরকে গুঁতো দিয়ে দূরে ঠেলে দেয়। তার মানে, গরম বাতাসের অণুগুলোর মধ্যে ফাঁকা স্থান বেড়ে যায়। একই আয়তনের বাতাসে আগে যতগুলো অণু থাকতে পারছিল, গরম বাতাসে তার চেয়ে কমসংখ্যক অণু থাকতে পারে। তাই এর ঘনত্ব কমে যায়। হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায়।
গরমের দিনে রঙিন কাপড়ে বেশি গরম লাগে কেন?
রঙিন কাপড়, বিশেষভাবে কালো বা ঘন রঙের কাপড় সূর্যরশ্মি বেশি শুষে নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাই গরমের দিনে রঙিন কাপড় পরলে বেশি গরম লাগে। দৃশ্যমান সূর্যের আলোর মধ্যে সাতটি রঙের সম্মিলন ঘটে এবং তখন তাকে সাদা দেখায়। কোনো কাপড় যদি সূর্যের আলোর লাল, নীল, বেগুনি বা অন্য কোনো রঙের রশ্মি বাতাসে ফেরত না পাঠিয়ে অর্থাৎ প্রতিফলিত না করে সূর্যরশ্মির সবটুকু শুষে নেয়, তাহলে তার রং কালো হয়। যদি শুধু নীল রং প্রতিফলিত করে তাহলে নীল, লাল রং ফেরত দিলে লাল রঙের কাপড় হয়। যদি সবগুলো রং ফেরত দেয়, তাহলে সেটা হয় সাদা কাপড় এবং তা সূর্যরশ্মির কোনো রং শোষণ করে না বলে বেশি গরম হয় না। তাই গরমের দিনে হালকা রঙের বা সাদা রঙের কাপড় পরলে ঠান্ডা ও কালো কাপড় পরলে খুব গরম লাগে। রঙিন কাপড়েও গরম লাগে, তবে কালো কাপড়ের চেয়ে কিছুটা কম। আবার শীতকালে কালো কাপড় পরলে উষ্ণতায় আরাম পাওয়া যায়।
ঠান্ডা লাগলে হাঁচি আসে কেন?
হাঁচি কাকে বলে তা কাউকে বুঝিয়ে বলার দরকার নেই । সবাই জানি, হঠাৎ প্রচণ্ড বেগে ও সশব্দে নাকের মধ্য দিয়ে ভেতরের বাতাস বের করাকে হাঁচি বলি। এটা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে। তাই আশপাশে যারা থাকেন, তাঁদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলি, মুখিত। কারণ, হাঁচির সঙ্গে হয়তো ঠান্ডাজনিত রোগের জীবাণু অন্যদের সংক্রমিত করতে পারে। কিন্তু কোনো অসুখবিসুখ ছাড়াই, শুধু হিমশীতল বাতাসের স্পর্শেই হাঁচি আসতে পারে। আসলে হাঁচি একধরনের স্নায়ুতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া। মুখমণ্ডল ও মাথার চারপাশে স্নায়ুর সূক্ষ্ম শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে থাকে। বিশেষভাবে মুখের চামড়ার স্নায়ুগুলো খুব সংবেদনশীল। রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ, কোনোকিছুর সঙ্গে ঘষা লাগা বা স্পর্শ, তাপ বা ব্যথার সামান্য অনুভূতিতেই এগুলো উদ্দীপ্ত হয়। এসব স্নায়ুর শাখা-প্রশাখা। নাসারন্ধের ভেতরেও বিস্তৃত থাকে। ফলে নাকের ভেতর অস্বস্তিকর অনুভূতির জন্য হাঁচি আসে। নাকের ভেতর ধুলাবালু ঢুকলে তো বটেই, যদি তা নাও হয়, শুধু ঠান্ডায় কাঁপুনি বা তাপমাত্রার আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে স্নায়ুগুলো উদ্দীপ্ত হতে পারে। এর প্রতিক্রিয়া মস্তিষ্কের অভ্যন্তরের 'হাঁচিকেন্দ্রে গিয়ে জড়ো হয়। তখন শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের স্নায়ুগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং হাঁচি আসে।
তাহলে সূর্যের দিকে তাকালে হাঁচি আসে কেন?
এটা নিশ্চয়ই একটি প্রশ্নযোগ্য প্রশ্ন। ঠান্ডায় হাঁচি আসার কারণ না হয় বুঝলাম, তাহলে সূর্যের দিকে তাকালে গরমের জন্য তো উল্টোটা ঘটার কথা। অর্থাৎ হাঁচির তো পালাবার কথা। সেটা হয় না কেন? হাঁচির কারণ নিয়ে বিজ্ঞানীরা অনেক গবেষণা করছেন। এর সব কারণ এখনো পর্যন্ত পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে এটা ঠিক যে নাকের ভেতর সুড়সুড়ির অনুভূতির জন্য হাঁচি আসে, যেন নাকের ভেতর অস্বস্তিকর কিছু থাকলে তা বেরিয়ে যায়। সেই সুড়সুড়ি ঠান্ডার অনুভূতির কারণেও হতে পারে। এমনকি তীব্র আলোর জন্যও হতে পারে । আমরা যদি সূর্যের দিকে তাকানোর চেষ্টা করি, তাহলে তীব্র আলোর জন্য স্নায়ুগুলো অতিমাত্রায় উজ্জীবিত হয় এবং মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কেন্দ্রে সংকেত পাঠায়। যে নাসারন্ধে অস্বস্তিকর কিছু ঘটছে। তখন সেই অস্বস্তি দূর করার জন্য হাঁচি আসে। অবশ্য সূর্যের দিকে তাকানোর চেষ্টা কেউ করবেন না, চোখ নষ্ট হতে পারে। এ রকম। সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে বাঁচানোর জন্যও হাঁচি কিছু উপকার করে।
ভালো কোলেস্টেরল ভালো কেন?
এইচডিএল (হাই ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন)-কে সাধারণভাবে বলা হয় ভালো কোলেস্টেরল। অন্যদিকে এলডিএল (লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন) খারাপ কোলেস্টেরল নামে পরিচিত। মানুষের শরীরের জন্য কোলেস্টেরল একটি অপরিহার্য উপাদান। এটা খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে এবং দেহকোষের ঝিল্লি ও প্রজনন হরমোন তৈরি করে। তাই কোলেস্টেরল খুব কমে যাওয়া খারাপ। কিন্তু রক্তে যদি নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি কোলেস্টেরল সঞ্চালিত হয়, তাহলে রক্তনালিতে তা জমে বাধা (ব্লক) সৃষ্টি করে। এতে রক্ত চলাচলে সমস্যা দেখা দেয়। হার্ট অ্যাটাকের এটি একটি বড় কারণ। কোলেস্টেরল কীভাবে রক্তে পরিবাহিত হয়, তার ওপর নির্ভর করে এর ভালো-খারাপ। যদি কোথায় পাবো জমির পর্চা, খতিয়ান, দলিল, ম্যাপ ইত্যাদি এলডিএলকে খুব বেশি কোলেস্টেরল পরিবহনে বাধ্য করা হয়, তাহলে সে ধমনিতে বাড়তি কোলেস্টেরল জমা করে ব্লক সৃষ্টি করে। অন্যদিকে এইচডিএল রক্তের বাড়তি কোলেস্টেরল শুষে নেয়, এমনকি জমে ওঠা কোলেস্টেরলের স্তরও অপসারণ করে। এতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে। শরীরে যদি কোনো কারণে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায় তাহলে তা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে এইচডিএল। বিশেষ ভূমিকা রাখে বলেই একে সাধারণের বোধগম্য ভাষায় বলা হয় ভালো কোলেস্টেরল। ব্যায়াম, হাঁটাহাঁটি, ঘরের কাজকর্ম করা ও শারীরিক পরিশ্রম এইচডিএল বাড়ায়। অন্যদিকে চর্বিযুক্ত মাংস, ঘি, মাখন, অতিরিক্ত তেলে রান্না খাবার প্রভৃতি খেলে এলডিএল বাড়ে। যারা সব সময় হাঁটা চলাফেরার মধ্যে থাকেন, তাঁরা পরিমিত মাত্রায় ঘি-চর্বি খেলেও চলে। কিন্তু যাঁরা অফিসে বসে কাজ করেন, ব্যায়াম চর্চা করেন না, তাঁদের চর্বিযুক্ত খাবার বাদ দিয়ে শাকসবজি খাওয়া ভালো।
বেশি ব্যায়াম কি বেশি ভালো?
অতিরিক্ত কিছুই ভালো না, এটা সবাই জানি। শরীরচর্চা বা ব্যায়ামের বেলায়ও সেটা খাটে। যাঁরা নিয়মিত দৌড়ান বা জগিং করেন, তাঁদের অনেকে হয়তো ভাবেন আরও একটু বেশি দৌড়ালে বোধ হয় ভালো হতো। কিন্তু গত ৯ জুন ২০১২, সানফ্রানসিসকোয় আমেরিকান কলেজ অব স্পোর্টস মেডিসিনের বার্ষিক সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, পরিমিত ব্যায়ামই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এবং তা দীর্ঘায়ু লাভে সাহায্য করে। বেশি ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। যারা ঘণ্টায় গড়ে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় মাইল বেগে সপ্তাহে অন্তত ১ থেকে ২০ মাইল পর্যন্ত দৌড়ান, তাঁরা অন্যদের চেয়ে বেশি সুস্থ থাকেন ও দীর্ঘায়ু লাভ করেন। আর যারা একেবারেই ব্যায়াম করেন না।। বা বেশি জোরে ও বেশি সময় দৌড়ান তাঁদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের ৫২ হাজার ৬৫৬ জন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির স্বাস্থ্য তথ্য বিশ্লেষণ করে এ বিষয়ে জানা গেছে। এদের সবাই ১৯৭১ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সময়কালে নিয়মিত ব্যায়াম করেছেন। বলা যায়, পরিমিত মাত্রায় হালকা ব্যায়াম সুস্বাস্থ্যের জন্য ভালো। ব্যায়াম কতটা দরকার, তা শরীরই বলে দেবে। শরীর চাপমুক্তভাবে যতটা গ্রহণ করতে পারে তার বেশি দরকার নেই। সপ্তাহে তিন-চার ঘণ্টা মাঝারি গতিতে হাঁটা যথেষ্ট বলে চিকিৎসকেরা মনে করেন।
শুকনো খেঁজুর-কিশমিশ কতটা উপকারী?
গবেষণায় দেখা গেছে, শুকনো খেজুর, কিশমিশ প্রভৃতি শরীরের হাড়ের জন্য খুব উপকারী রিডার্স ডাইজেস্ট (জুলাই, ২০১২) এ বিষয়ে তথ্য দিয়েছে। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক জানিয়েছেন, দিনে ১০টি শুকনো খেজুর খেলে একজন মাঝবয়সী নারীর অস্থিক্ষয় লক্ষণীয়ভাবে কমে আসে। ১০টা না হোক, দিনে অন্তত তিনটি খেজুরও ভালো উপকার দেয়। ওই অধ্যাপকের মতে, শুকনো খেজুর-কিশমিশ প্রভৃতি খুবই “অস্থিবান্ধব'। যেহেতু রজোনিবৃত্তির পরবর্তী সাত বছরে একজন নারীর অস্থি বা হাড়ের ভর প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে, তাই নারীদের জন্য এটা বিশেষভাবে সুখবর। লবণ কম খাওয়াও অস্থি সুরক্ষার আরেকটি ভালো উপায়। ক্যালসিয়াম হাড়ের জন্য উপকারী। ক্যাফেইন এই ক্যালসিয়াম কমিয়ে দেয়, সেটা সবাই জানে। কিন্তু লবণও এ ব্যাপারে কম যায় না। এক চা-চামচ লবণ শরীর থেকে ৪০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম বের করে দেয়। ফলে হাড়ের ক্ষতি হয়। সে তুলনায় ১০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইনসমৃদ্ধ এক কাপ কফি অনেক কম ক্ষতি করে।
লেখক: আব্দুল কাইয়ুম
প্রকাশকাল: ২০১৩
সর্বশেষ প্রকাশ: ২০১৯




Thanks for comment.....!