মস্তিষ্ক কি আপনাকে ফাঁকি দেয়?
কাচ স্বচ্ছ কেন?
সাদা চিনির চেয়ে কি ধূসর চিনি ভালো?
আসলে এমন কোনো চিনি নেই যেটা অন্যটার চেয়ে ভালো। অনেক সময় ধারণা দেওয়া হয় যে ধূসর চিনি যেহেতু বেশি পরিশোধন করা হয় না, সে কারণে ওই চিনিতে প্রাকৃতিক গুণ বেশি থাকে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, ধূসর, লালচে রঙের বা সাদা চিনি—সব কটিতেই প্রায় একই ধরনের পুষ্টি থাকে । তবে লাল গুড় কিছুটা ভালো; কারণ, গুড়ে লোহা (আয়রন) বেশি থাকে। অনেক সময় সাদা চিনিতে কিছু রং মিশিয়ে ধূসর চিনি তৈরি করা হয়, যেহেতু এর চাহিদা বেশি। সেদিক থেকে বলা চলে, সাদা বা ধূসর চিনি আসলে একই বস্তু। অনেক চিকিৎসক বলেন, চিনি হলো 'সাদা বিষ'! কারণ, আমরা যে খাবার খাই তা শরীরের চিনির চাহিদা পূরণ করে। খাদ্য পরিপাক করে শরীর যা গ্রহণ করে সেটাই আসলে চিনি, যা আমাদের কাজ করার শক্তি দেয়। সেই সঙ্গে শরীর পায় খাদ্যে সঞ্চিত ভিটামিন, বিভিন্ন ধরনের লবণ ও খনিজ পদার্থ। সরাসরি চিনি খেলে শরীর শুধু চিনিই পায়। প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত চিনি শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই সেটা এক অর্থে বিষই বটে। যাঁদের মোটামুটি ভাত-ডাল-মাছ খেয়ে চলার সংগতি আছে এবং সেই খাবার খেয়েই দৈহিক শ্রমের জন্য পর্যাপ্ত শক্তি দেহে সঞ্চিত হয়, তাঁদের বাড়তি চিনি খাওয়ার প্রয়োজনই নেই। এর পরও কোনো খাবার মিষ্টি করতে হলে চিনির চেয়ে লাল গুড় ব্যবহার করা ভালো।
অজানা রাশিকে x ধরি কেন?
কয়েক দিন আগে অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী আমাদের কয়েকজনের কাছে একটি ইউ টিউবের ভিডিও ক্লিপিং ফরোয়ার্ড করেন। সেখানে টেরি মুর ব্যাখ্যা করছেন, কেন অজানা রাশিকে x ধরা হয়। এখন তো x বহুল প্রচলিত, সবাই ব্যবহার করেন। যেমন, X ফাইল.. x গ্রহ। বীজগণিতে কোনো অজানা রাশির মান বের করতে হলে প্রথমে ধরে নিই তার মান X । কেন x ধরি? এটা এসেছে আরবি ভাষা থেকে রূপান্তরিত হয়ে। একাদশ ও দ্বাদশ শতাব্দীতে আরবরা বিজ্ঞান ও গণিতে অনেক উন্নতি করে। বিশেষভাবে বীজগণিতে। আরবি আলজাবর থেকে অ্যালজেবরা এসেছে। এই সময় বীজগণিতের বিষয়গুলো ইউরোপীয় তথা স্পেনীয় ভাষায় অনুবাদের উদ্যোগ নেন অনেকে। কিন্তু একটা সমস্যা দেখা দেয়। আরবি ভাষায় 'শিন' অক্ষরটি যেভাবে বাংলায় 'শ' বা ইংরেজিতে 'sh' দিয়ে উচ্চারণ করা যায়, স্পেনীয় ভাষায় সে রকম পারা যায় না। অনুবাদ করতে গিয়ে এখানে স্পেনীয়রা এই সমস্যায় পড়েন। আরবিতে 'শাইউন' শব্দের অর্থ 'কিছু' আর 'আল-শাইউ' (আশ্শাইউ) শব্দের অর্থ ‘কোনো কিছু' অর্থাৎ অজানা কিছু। ‘বর্গমূল নির্ণয়' বিষয়ক লেখায় 'আল- শাইউ' শব্দের অনুবাদ করার সময় দেখা গেল স্পেনীয় ভাষায় 'শ' নেই। তাই সেখানে। স্পেনীয় বিজ্ঞানীরা প্রাচীন গ্রিক অক্ষর X কাই' ব্যবহার করেন। এটা দেখতে ইরেজি x-এর মতো বলে পরে ইংরেজিতে কাইয়ের পরিবর্তে অজানা রাশি বোঝাতে x-এর প্রচলন হয়।
মেয়েরা লিপস্টিক পরে কেন?
এ ব্যাপারে বিভিন্ন তত্ত্ব আছে। প্রধান তত্ত্বটি হলো নিজেকে আকর্ষণীয় করে তোলা। ঠোঁটে লাল লিপস্টিক বন্ধুদের কাছে টানে। মন দেওয়া-নেওয়া যদি প্রেমের প্রথম পর্ব হয়, দ্বিতীয় পর্ব হলো চুম্বন ৷ চুম্বনে মেয়েদের ঠোঁট রাঙা হয়। লিপস্টিক তারই প্রতীক। কিশোরীদের ঠোঁটের স্বাভাবিক রং কিছুটা রক্তিম। তাই তরুণী বা বয়স্করা লিপস্টিক পরে ঠোঁট রঙিন করলে বয়স কম দেখায়। এ কারণেও মেয়েরা লিপস্টিক পরে। এ সবই সত্য। কিন্তু প্রেম-ভালোবাসার মধ্যেই লিপস্টিকের মাহাত্ম সীমিত নয়। লিপস্টিক মেয়েদের ব্যক্তিত্বকেও ফুটিয়ে তোলে। এর একটা ইতিহাস আছে। ১৮৯০ ও ১৯০০-এর দশকে মেয়েদের ভোটাধিকার অর্জনের আন্দোলনের সময় ইউরোপ-আমেরিকায় মেয়েরা প্রচলিত ধারার বিরোধিতার প্রতীক হিসেবে ব্যাপকভাবে লিপস্টিক পরা শুরু করে। ১৯৮০-এর দশকে বড় বড় কোম্পানির উচ্চতর পদে অগ্রাধিকার আদায়ের সংগ্রামে মেয়েরা লিপস্টিক পরাকে তাদের একটি অন্যতম অস্ত্র হিসেবে গণ্য করতে থাকে। এটা লিপস্টিক পরার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। নারীর ক্ষমতায়নে লিপস্টিকের ভূমিকা রয়েছে। শুধু মেয়েদের সৌন্দার্যের প্রতীকই নয়, লিপস্টিক মেয়েদের ব্যক্তিত্বেরও প্রকাশ ।
একজন তরুণী কখন লাজে রাঙা হয়?
মনে করুন সেই দিনটির কথা, যখন সব জড়তা কাটিয়ে আপনি প্রেম নিবেদন করলেন। ভালোবাসার মানুষটির লজ্জাবনত মুখ লাল হয়ে উঠল, আর আপনি ঘামতে শুরু করলেন। আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লে চোখ-মুখ লাল হয়ে যায়। কারণ, বিব্রতকর অবস্থা সামাল দিতে রক্ত সরবরাহ বেড়ে যায়। তখন মুখ ও শরীরের অন্যান্য অংশের রক্তবাহী ধমনি প্রসারিত হয়। মুখমণ্ডলে তার ছাপ পড়ে। এ জন্য লাল দেখায়। একে ইংরেজিতে বলে 'রাশিং' যাকে সাদা বাংলায় বলা হয় লাজে রাঙা' হওয়া। বাড়তি রক্তপ্রবাহের কারণে শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ে। এই খবর চামড়ার স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছায়। এর প্রতিক্রিয়ায় যেমন চোখমুখ গরম হয়ে ওঠে, তেমনি ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ার মতো অবস্থা হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ আবেগ-অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল আয়ত্ত করে নেয়। তাই লাজে রাঙার ব্যাপারটা সাধারণত তরুণ-তরুণীদের বেলায়ই দেখা যায়।
বিঃদ্রঃ উপরের তথ্যগুলো বিজ্ঞানের রাজ্যে শত প্রশ্ন বই থেকে নেওয়া। (পর্ব ২) প্রথম পর্ব
সংগ্রহীতঃ বই: বিজ্ঞানের রাজ্যে শত প্রশ্ন।
লেখক: আব্দুল কাইয়ুম
প্রকাশকাল: ২০১৩
সর্বশেষ প্রকাশ: ২০১৯
পরবর্তী আর্টিকেলে যা থাকছে-
☞ মেয়েশিশুরা কেন গোলাপী জামা পরে?
☞ প্রথম দেখার স্মৃতি ভোলা যায় না কেন?
☞ চুম্বনে চোখ বন্ধ হয়ে আসে কেন?
☞ ইন্টারনেটে বিয়েতে প্রেম কতটা টেকসই?







Thanks for comment.....!