বিজ্ঞানের আরোও প্রশ্ন উত্তর | তেলাপোকা চিতপটাং হয় কেন | মশা মারা কঠিন কেন | কুকুরের লেজ সোজা হয় না কেন | কাঠাল কিভাবে পাকানো হয় | খেঁজুর গাছের রস মিষ্টি কেন | Science dojo Bangla

Science Dojo
By -
0

পর্ব ৪: 

Cockroach, তেলাপোকা, তেলাপোকা মারার উপায়, তেলাপোকা কেন হয়, how to finish cockroach,

তেলাপোকা চিতপটাং হয় কেন?

অনেক সময় দেখা যায়, ঘরের মেঝেতে কোনো তেলাপোকা চিতপটাং অবস্থায় পড়ে আছে।। এটা তাদের আত্মরক্ষার একটি কৌশল। তেলাপোকাকে মারার জন্য তাড়া করলে ওরা এ কাণ্ডটি করে। কিছু দূর দৌড়ে মেঝের প্রান্তে গিয়ে ওরা পেছনের পায়ের আঁকশি দিয়ে ধাক্কা দিয়ে এক ডিগবাজি খায় । এভাবে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে একেবারে উল্টো হয়ে পড়ে থাকে। তখন মনে হয় তেলাপোকা যেন মুহূর্তের মধ্যে উধাও হয়ে গেল। কারণ, তার বাদামি রঙের খোলসটি আড়ালে চলে যায়। সম্পূর্ণ ব্যাপারটা এক সেকেন্ডের পাঁচ ভাগের এক ভাগ সময়ের মধ্যে ঘটে। এত দ্রুত পটকান খেতে গিয়ে তার শরীরের ওপর মাধ্যাকর্ষণজনিত শক্তির তিন থেকে পাঁচ গুণ বেশি চাপ পড়ে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের একজন বিজ্ঞানী এ নিয়ে গবেষণা করে তেলাপোকার এই অসাধারণ কৌশলটি লক্ষ করেছেন । তক্ষকজাতীয় প্রাণীও এই কৌশলটি জানে। দেখা গেছে, ওরাও আক্রান্ত হলে চিতপটাং হয়ে নিজেকে চোখের পলকে উধাও করে ফেলে!


The mosquito, mosquito cartoon, dengue, Adis mosquito, এডিস মশা থেকে বাঁচার উপায়,

মশা মারা কঠিন কেন?

প্রায়ই দেখা যায়, মশা কামড়ে চলে যাওয়ার পর আমরা কষে চড় মারি, মশা মরে না, বরং নিজেরাই ব্যথা পাই। কেন আমরা একটু আগে মশার কামড় টের পাই না? এর কারণ হলো, মশারা গায়ে বসেই হুল ফোটায় না। তাদের শরীর এত হালকা যে, ওরা যদি তাদের ছয় পা বিছিয়ে পাঁচ-ছয় মিনিটও শরীরের চামড়ার ওপর বসে থাকে, টের পাওয়া যাবে না । কামড়ানোর আগে ওরা মিনিট খানেক চুপচাপ বসে থাকে । হুল পিচ্ছিল। করার জন্য মুখে লালা আনে। এরপর হুল ফুটিয়ে মিনিট তিনেক ধরে রক্ত চুষে নেয়। পেট ভরে গেলে, মাত্র কয়েক সেকেন্ডে হুল বের করে উড়ে যায় ডিম পাড়ার জন্য। লালার কারণে গায়ের চামড়া কিছুটা অবশ হয় বলে মশার কামড় সহজে টের পাওয়া যায় না। কিন্তু লালার একটি উপাদান রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না। এই উপাদানটির জন্য কারও কারও চামড়ায় অনেক সময় অ্যালার্জি হয়, চুলকায়। তখনই মনে হয় মশা কামড়াচ্ছে। ততক্ষণে মশা রক্ত খেয়ে উড়ে গেছে!

মাথার ওপর মশারা ওড়ে কেন?

সন্ধ্যার দিকে মাঠে বা নদীর পাড়ে হাঁটার সময় মশারা চারপাশ থেকে এসে দল বেঁধে মাথার ওপর জড়ো হয়। ফানেলের আকার ধারণ করে ঘুরপাক খেতে থাকে। হাত দিয়ে তাড়াতে চাইলেও ওরা যায় না। একটানা ভনভন শব্দ করে উড়তে থাকে। আমরা হাঁটাহাঁটি করলে মশার দলও সেই ফানেলের আকৃতি অবিকৃত রেখে মাথার ওপরেই ঘুরন্ত অবস্থায় চলতে থাকে । কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস মশাকে আকর্ষণ করে। বলেই এ রকম হয় । আমাদের নিঃশ্বাসের সঙ্গে এই গ্যাস বেরোয়। মশারা যে মানুষ চেনে, সেটা ওই কার্বন ডাই- অক্সাইড দিয়েই। দিনের আলো মশারা সহ্য করতে পারে না। তাই ওরা সন্ধ্যায় বেরোয়। এ সময় আমরা মাঠে হাঁটাহাঁটি করলে নিঃশ্বাসের সঙ্গে বের হওয়া কার্বন ডাই- অক্সাইডের আকর্ষণে মশারা মাথার ওপর জড়ো হয়। বলা যায়, আমাদের নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসই তাদের টেনে আনে আমাদের মাথার ওপর। অনেক সময় মশা ছাড়াও অন্য কোনো পোকা বা একজাতীয় খুদে মাছি মাথার ওপর জড়ো হয়। এরা আসলে ঠিক আমাদের মাথা লক্ষ্য করে আসে না। আমাদের নিঃশ্বাস ও শরীরের উষ্ণতাকে ওরা কোনো জলাভূমি থেকে উঠে আসা গ্যাস বা জলীয়বাষ্প বলে ধরে নেয়। সে জন্য সেখানে তারা জড়ো হয় । কারণ, জলাভূমিতে তাদের খাদ্য থাকে। শুধু খাদ্য নয়, জলাভূমি তাদের আদর্শ প্রজননক্ষেত্রও বটে। সেখানে দল বেঁধে উড়তে থাকে তাদের স্ত্রীজাতীয় সঙ্গীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। আকৃষ্ট হয়ে সঙ্গীরা ছুটে এসে তাদের সঙ্গে মিলিত হয় এবং সেখান থেকে সোজা জলাভূমিতে চলে যায় ডিম পাড়ার জন্য।

কে কার পিঠ চুলকায়?

আপনার বন্ধু একটা ব্রাশ দিয়ে তার পিঠ চুলকানোর অনুরোধ করল। আপনি তার পিঠে জোরে জোরে ব্রাশ ঘষতে শুরু করলেন। তিন-চারবার ঘষার পর আপনি দুষ্টমি করে মাঝে মাঝে এক হাতে বন্ধুর পিঠ আর ব্রাশ দিয়ে নিজের পিঠ চুলকানোর কৌশল নিলেন। বন্ধু কিন্তু বুঝতে পারবে না কখন আপনি ব্রাশ দিয়ে আর কখন হাত দিয়ে ঘষে দিচ্ছেন। মনে করবে আপনি সব সময় ব্রাশ দিয়েই তার পিঠ ঘষে দিচ্ছেন। চোখে দেখা আর স্পর্শানুভূতির সম্মিলন না ঘটলে অনুভূতির এ ধরনের সূক্ষ্ম পার্থক্য মস্তিষ্কের পক্ষে ধরা খুব কঠিন। সত্য উপলব্ধির জন্য দেখা-শোনা-স্পর্শ প্রভৃতির সম্মিলন প্রয়োজন হয়। এ জন্যই বলা হয়, 'চক্ষু-কর্ণের বিবাদভঞ্জন'! আপনার কোনো বন্ধুকে জানতে না দিয়ে আপনি চুলকানোর ব্যাপারটা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

Dog tail, dog prize, best dog, dog prize Bangladesh, dog cartoon,


কুকুরের লেজ সোজা হয় না কেন?

রূপকথার সেই দৈত্য দিনরাত চেষ্টা করেও যে কুকুরের লেজ সোজা করতে পারেনি, তার কারণ হলো ওদের লেজ পরপর গাঁথা কশেরুকায় এমনভাবে তৈরি যে তা স্বাভাবিক অবস্থায় সব সময় কিছুটা বাঁকানো অবস্থায় থাকে। লেজের গাঁথুনি নমনীয়। তাই কুকুর তার পেশি সঞ্চালনের মাধ্যমে লেজ নাড়াতে বা ওপরে উঠাতে বা নিচে নামাতে পারে। আমরা হাত দিয়ে তার লেজ সোজা করতে পারি, কিন্তু ছেড়ে নিলেই সে তার স্বাভাবিক বাকানো অবস্থায় ফিরে যায়। এই প্রক্রিয়াটি দেশি নেড়ি কুকুরের বেলায় বেশ খাটে। কুকুর ভয় পেলে তার লেজ ভূমির সমান্তরাল। সোজা বা এমনকি নিচে নামিয়ে ফেলে। আবার বাসার পরিচিত লোকজন বা মালিককে দেখে লেজ নাড়িয়ে আনন্দ প্রকাশ করে। কিন্তু এসবই কুকুরের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত অঙ্গসঞ্চালন। জোর করে লেজ সোজা করতে গেলেই বোঝা যায় কাজটি। কত কঠিন। অবশ্য বিদেশি জাতের কিছু কুকুরের লেজ ঘন পুরু পশমে ঢাকা ও স্বাভাবিক অবস্থায় মোটামুটি সোজা থাকে। সেটা আলাদা ব্যাপার । পর্ব ২

বানরের মাথায় টাক পড়ে না কেন?

অনেক মানুষের মাথায় টাক পড়ে, কিন্তু বানর বা অন্য কোনো বুনো পশুর মাথায় সাধারণত টাক পড়তে দেখা যায় না। কেন? উত্তরটা সহজ। কারণ, লক্ষ করলে দেখা যাবে সাধারণত বয়স বেশি হলে মানুষের মাথায় টাক পড়ে। কিন্তু বানর বা অন্য কোনো পশু সাধারণত বেশি দিন বাঁচে না, প্রকৃতির প্রতিকূলতার মুখে কম বয়সেই তাদের অনেকের জীবনাবসান হয়। তাই তাদের মাথায় টাক পড়ার সুযোগ থাকে না। মাথায় চুল, অর্থাৎ পশম থাকা অবস্থায়ই আমরা ওদের দেখি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেট ক্যাটস ন্যাশনাল জু-এর। কিউরেটর ক্রেইগ স্যাফো অবশ্য উল্লেখ করেছেন যে তিনি বেশ কিছু টাকওয়ালা বন্য প্রাণী দেখেছেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যাদের বয়স ছিল গড় আয়ুর চেয়ে বেশি (দেখুন, স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন, জুন ১, ২০১২)। এ কারণে তিনি মনে করেন, চুলপড়া রোগ না হলে বেশির ভাগ প্রাণী টাক পড়ার পর্যায় পর্যন্ত বেঁচে থাকে না বলেই আমরা ধারণা করি বানর বা ওই জাতীয় প্রাণীদের টাক পড়ে না!

এক কাপ কফি কি আপনার মাথাব্যথা সারাতে পারে?

অনেক ক্ষেত্রে মাথাব্যথা সারানোর জন্য আপনি এক কাপ কফি খেলে উপকার পাবেন। এর কৃতিত্ব ক্যাফেইনের, যা কফির মধ্যে থাকে। এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, কফির সঙ্গে এসপিরিন মিশিয়ে খেলে খুব দ্রুত কাজ হয়। এসপিরিনে যদি মাথাব্যথা সারে ৪০ মিনিটে, তা হলে কফির সঙ্গে মিশিয়ে খেলে তা সেরে যাবে ২৪ মিনিটে। অর্থাৎ মাথাব্যথা সারাতে এসপিরিন কফি শুধু এসপিরিনের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি দক্ষ। তবে মাথাব্যথা স্থায়ী রোগ হয়ে দাঁড়ালে কফির দিকে না গিয়ে বরং এর পেছনের কারণ বের করার জন্য চিকিৎসকের কাছে যাওয়া দরকার। মাথাব্যথার অনেক কারণ থাকে, সেগুলো শনাক্ত করে দূর করাই ভালো। যেমন, চোখের দৃষ্টি-সমস্যা থাকলে প্রায়ই মাথাব্যথা হতে পারে। চোখের চিকিৎসক এর সমাধান দিতে পারেন ।

বোঁটায় গোঁজ দিলে কাঁঠাল পাকে কেন?

বোঁটায় গোঁজ দিলে কাঁঠালের ভেতরে যে ক্ষত সৃষ্টি হয়, তার প্রতিক্রিয়ায় কাঁঠাল নিজগ ব্যবস্থায় দ্রুত মেয়েরা লিপস্টিক পরে কেন? একধরনের রাসায়নিক পদার্থ ইথিলিন বের করতে থাকে। এই ইথিলিনই কাঁঠাল পাকায়। অন্যান্য ফলের মতো কাঁঠালও নিজস্ব নিয়মে পাকে। গাছে মোটামুটি বড় হলে একসময় পাকার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ফলের ভেতর থেকেই প্রয়োজনীয় মাত্রায় ইথিলিন বের হয়ে কাঁঠাল, আম, কলা প্রভৃতি ফল পাকায়। গাছেই পুরোপুরি পেকে গেলে বোঁটা ছিড়ে পড়ে কাঁঠাল নষ্ট হয়ে যেতে পারে, সে জন্য তার আগেই গাছ থেকে নামিয়ে অন্ধকার ঘরে রাখলে ধীরে ধীরে ইথিলিন বেরিয়ে কাঁঠাল পাকা শুরু হয়। প্রক্রিয়া তাড়াতাড়ি করার জন্য অনেক সময় অন্ধকার ঘরে কৃত্রিমভাবে ইথিলিন প্রয়োগ
করে কাঁঠাল বা অন্যান্য ফল পাকানো হয়। এতে সমস্যা হলো, রাসায়নিকের মাত্রা বেশি হলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করে। এই রাসায়নিক পদার্থ পানির সঙ্গে বিক্রিয়ায় এসিটিলিন তৈরি করে, যা ফল পাকায়। কিন্তু শিল্পোৎপাদনে ব্যবহৃত ক্যালসিয়াম কার্বাইডে কিছু পরিমাণে আর্সেনিক ও ফসফরাস থাকতে পারে। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই এসব রাসায়নিক ব্যবহার বেআইনি। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে যদি দ্রুত কাঁঠাল পাকাতে চাই, তাহলে আমরা কাঁঠালের বোঁটার গোড়ায় শক্ত কোনো কাঠি বা লোহার শিক ঢুকিয়ে অন্ধকার ঘরে দু-এক দিন রেখে দিই। এতে দ্রুত স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ইথিলিন বেরোতে থাকে ও কাঁঠাল পাকে। একেই বলা হয় গোঁজ দেওয়া।

Jack fruit, কাঁঠাল, কাঠাল খাওয়ার উপকারীতা, কিভাবে কাঠাল পাকাতে হয়, আমাদের জাতীয় ফল কী


"কিলারে কাঁঠাল পাকানো কি সম্ভব?

হ্যাঁ, সম্ভব, খুবই সম্ভব। না হলে এই প্রবাদ এল কোথা থেকে? যেকোনো প্রবাদের পেছনে বাস্তব ভিত্তি থাকে। কিলায়ে কাঁঠাল পাকানোর প্রবাদটিও এসেছে বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই। কাঁঠালের বোটায় গোঁজ দিয়ে যে কাঠাল পাকানো যায়, সেটা তো আমরা জানলাম। কাঁঠাল, কলা প্রভৃতি ফল পাকে ইথিলিনের প্রভাবে। এসব ফল মোটামুটি পরিপূর্ণতা পেলে ফলের ভেতরের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় ইথিলিন বেরোয়। এখন যদি কোনো কাঁঠাল পুরোপুরি পাকার আগেই গাছ থেকে পেড়ে ঘরে রাখা হয়, তাহলে সেটাও পাকবে, তবে একটু সময় লাগবে। নিজস্ব প্রক্রিয়ায়ই এর ভেতর থেকে ইথিলিন বের হবে, যার প্রভাবে দু-চার দিনের মধ্যেই কাঁঠাল পেকে যাবে। কিন্তু বোঁটায় গোজ না দিয়েও যদি কেউ তাড়াতাড়ি পাকাতে চায়, একটি ভালো উপায় হলো, কাঁঠালে দু-চারটা আচ্ছাসে কিল মারা। কিল খেয়ে কাঁঠালের ভেতরের কোষগুলো কিছুটা সেঁতসে যায়। এই ক্ষত সৃষ্টির প্রতিক্রিয়ায় কাঁঠাল জরুরি ভিত্তিতে ইথিলিন নিঃসরণ ঘটায়, যার প্রভাবে দ্রুত কাঁঠাল পেকে যায়। এই অভিজ্ঞতা থেকেই 'কিলায়ে কাঁঠাল পাকানো'র প্রবাদটি এসেছে। কারও কাছ থেকে দ্রুত কাজ আদায় করতে এই মোক্ষম প্রবাদটি ব্যবহার করা হয়।

অট্টহাসিতে কি ব্যায়াম হয়?

রমনা পার্কে সকালে হঠাৎ অট্টহাসি শোনা যায়। হাঁটার পর অনেকে ব্যায়ামের অংশ হিসেবে অট্টহাসির চর্চা করেন । অনেকে আবার কিছুক্ষণ প্রাণ খুলে হাসার পরক্ষণেই বুক ভাসিয়ে কান্না জুড়ে দেন। এটাও এক ব্যায়াম। কিন্তু হাসি-কান্না তো মূলত কৌতুক বা বেদনাদায়ক কিছুর প্রতিক্রিয়া মাত্র। এতে কীভাবে ব্যায়াম হয়? এটা আসলে ফুসফুস, হৃদযন্ত্র এব গলা, বুক ও পেটের মাংসপেশির ব্যায়াম। হাসির সময় প্রবল বেগে নিঃশ্বাস বেরোয়। ডায়াফ্রামের পেশিকে বেশ শক্ত কাজ করতে হয়। আমরা অনেক সময় বলি, হাসতে হাসতে মারা গেলাম। তার মানে, অবিরাম হাসি এত কষ্টসাধ্য যে একসময় শক্তির শেষ সীমায় পৌঁছে গেছি বলে মনে হয়। একটানা হাসি বেশ চাপ সৃষ্টি করে ও হাঁপিয়ে তোলে। কিন্তু হাসি। কি ব্যায়ামের মতোই শারীরিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে? ব্যায়ামের ফলে সৃষ্ট কষ্টকর অনুভূতির প্রতিক্রিয়ায় শরীর এনডরফিন নিঃসরণ করে। এতে বেদনাদায়ক অনুভূতি কমে যায়। দেখা গেছে, জোরে একটানা হাসলেও শরীরে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ, হাসিও একধরনের ব্যায়াম। কান্নার ব্যাপারটাও তাই। দল বেঁধে হাসি-কান্নায় আরও ভালো কাজ হয়।

খেজুরগাছের রস মিষ্টি হয় কেন?

খেজুরগাছের পাতা সূর্যের আলো ও শেকড়ের সাহায্যে মাটি থেকে পানি নিয়ে আলোক- সংশ্লেষণের (ফটোসিনথিসিস) মাধ্যমে চিনি তৈরি করে। আলোক-সংশ্লেষণ হলো একটি জটিল জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া। একে বলা যায় গাছের খাদ্য তৈরির নিজস্ব ব্যবস্থা। গাছের শেকড় মাটি থেকে বিভিন্ন খনিজ পদার্থও গ্রহণ করে। মাটির তরল পদার্থ ও আলোক- সংশ্লেষণে তৈরি চিনির মিশ্রণ সৃষ্টি করে খেজুরের মিষ্টি রস। খেজুরগাছের ওপরের দিকের কাজ কিছুটা চেঁছে বিশেষ প্রক্রিয়ায় এই রস সংগ্রহ করা হয়। চিনির জন্যই খেজুর মিষ্টি। শুধু খেজুর গাছই নয়, নারকেলগাছও আলোক-সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় মিষ্টি পানি তৈরি করে। আম, পেঁপে প্রভৃতি ফল যে মিষ্টি হয়, তা এই আলোক-সংশ্লেষণের কারণেই।

বিঃদ্রঃ উপরের তথ্যগুলো বিজ্ঞানের রাজ্যে শত প্রশ্ন  বই থেকে নেওয়া। (পর্ব ৪)পর্ব ৩
সংগ্রহীতঃ বই: বিজ্ঞানের রাজ্যে শত প্রশ্ন।
লেখক: আব্দুল কাইয়ুম 
প্রকাশকাল: ২০১৩
সর্বশেষ প্রকাশ: ২০১৯

( পরবর্তী পর্ব দেখার আমন্ত্রণ রইল)


ট্যাগ: কাঁঠাল, তেলাপোকা, ইথিলিন, ফটোসিন্থেসিস, মশা, খেঁজুর গাছ, কফি, অ্যাসপিরিন, বানর, কুকুর, কার্বন ডাই অক্সাইড, 

Post a Comment

0Comments

Thanks for comment.....!

Post a Comment (0)