বল প্রয়োগ করা হলেও কিছু ক্ষেত্রে কাজ হয় না কেন?
এটা বুঝতে আগে কাজ কি সেটা জানতে হবে। প্রকৃতপক্ষে কোনো কিছু করাকে কাজ মনে করা হলেও বিজ্ঞানের ভাষায় কাজ হলো কোনো বস্তুর সরণের পরিবর্তনের হারকে কাজ বলে।
যেমন, কোনো ব্যক্তি যদি সারাদিন কাঠের বোঝা মাথায় নিয়ে এক স্থানে দাঁড়িয়ে থাকে তাহলে বিজ্ঞানের ভাষায় কোনো কাজ করে নি। অথ্যাৎ সে অবস্থান বা সরণের পরিবর্তন করে নি।
আরেকটা উদাহরণ দেয়া যাক, ধরুন আপনি আপনার বাড়ি থেকে স্কুলে গেলেন আবার স্কুল থেকে আবার বাড়ি ফিরলেন। সেক্ষেত্রে ও বিজ্ঞানের ভাষায় আপনি কোনো কাজ করেন নি। কারণ আপনি যেখান থেকে অবস্থানের পরিবর্তন বা সরণের পরিবর্তন শুরু করেছিলেন ঠিক আবার সেই অবস্থানে ফেরৎ আসার কারণে সরণের পরিবর্তন শুন্য হওয়ার কারণে কোনো কাজ হয় নি।
এবার আসুন সূত্র প্রয়োগ করে বুঝি।
কাজ, W=FS cos@
এখানে W= কাজ
F= বল
S= সরণ
@= থিটা
এখানে যেকোনো একটি শুন্য হলে কাজ ও শুন্য (0) হবে। কিন্তু বল প্রয়োগ এবং সরণের পরিবর্তন থাকলেও cos যদি 90° অথ্যাৎ লম্ব বরাবর কাজ করে তাহলেও কাজ শুন্য হবে।কারণ cos90°= 0
আরও একটি উদাহরণে আসা যাক, বলতে পারবেন আমরা যখন হাঁটি তখন কোন পায়ের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। না পারলেও সমস্যা নেই আমি বলে দিচ্ছি। হাঁটার ক্ষেত্রে পিছনের পায়ের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। কারণ সামনের পা যখন ফেলেন তখন সেটি লম্ব বরাবর নিচের দিকে ক্রিয়া করে ফলে সেটি cos90 হয়ে যায় যার ফলে কাজ হয় শুন্য। কিন্তু পেছনের পা 60° কোনে ক্রিয়া করে ফলে সেটি সামনের দিকে এগিয়ে যায়। এ থেকে বোঝা যায় বল প্রয়োগ করলেও কাজ শুণ্য হতে পারে।
মেয়েশিশুরা কেন গোলাপি জামা পরে?
খুব ছোট শিশুরা দেখতে প্রায় একই রকম। কে ছেলে, কে মেয়েশিশু তা চেহারা দেখে বোঝা মুশকিল। এ জন্য বিশেষ রঙের পোশাক ব্যবহারের চল হয়। প্রাচীন ইউরোপে ধারণা করা হতো যে শিশুদের আশপাশে সব সময়। ভূত-পেতনি ঘোরাঘুরি করে, কিন্তু বিশেষ রং দেখলে ওরা পালিয়ে যায়, শিশুর ক্ষতি করতে পারে না। এ জন্য শিশুর মা-বাবারা ছেলে শিশুদের নীল পোশাক পরানর কথা ভাবে। কারণ আকাশের রং নীল, আর আকাশ হলো স্বর্গীয় ব্যাপার। তাই নীল রঙ নিশ্চয়ই খুব শক্তিশালী। ওরা প্রথম দিকে শুধু ছেলে শিশুদের বাঁচাবার কথাই চিন্তা করত, কারণ ওরা ভাবত, মেয়ে শিশুদের নিয়ে ভূত-প্রেতের মাথা- ব্যথা নেই। তাই প্রথম দিকে মেয়েশিশুদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো রঙের জামা ছিল না। কিন্তু পরে মেয়েশিশুদের জন্য গোলাপি জামার প্রচলন হয়। কারণ ইউরোপের পুরোনো লোককাহিনিতে বলা হয়, মেয়েশিশুরা গোলাপি রঙের গোলাপ ফুলের ভেতর জন্ম নেয়।
প্রথম দেখার স্মৃতি ভোলা যায় না কেন?
দুই দিন আগে যে আপনি বইয়ের দোকানে গিয়েছিলেন, সে কথা খুব বেশি মনে নেই, কিন্তু দশ বছর আগে ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে কখন, কোথায় দেখা হয়েছিল, তার প্রতিটি মুহূর্ত আপনার হুবহু মনে আছে। হোক না অনেক আগের ঘটনা। সেই মধুর দৃশ্য আপনার স্মৃতিতে এখনো উজ্জ্বল। কীভাবে নিষ্পলক দৃষ্টিতে আপনি ওকে দেখেছিলেন, চোখে চোখে কী কথা হয়েছিল, ও ঠিক কোন রঙের পোশাক পরেছিল, হাসিটা কত হৃদয়গ্রাহী ছিল, সবই আপনি এক নিঃশ্বাসে বলে দিতে পারেন। কীভাবে এটা সম্ভব? প্রেমের ব্যাপার বলেই এটা সম্ভব। কারণ, প্রেমে আবেগের সঞ্চার হয়। মনস্তত্ত্ববিদেরা অনেক আগে থেকেই জানেন, আবেগের ঘটনাগুলো সাধারণত স্মৃতিতে চির অম্লান থাকে । মস্তিষ্কের সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ারে ধূসর পদার্থের আমিগডালা অংশ হৃদয়ের আবেগ দ্বারা প্রভাবিত হয়। এই স্মৃতি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সযত্নে রক্ষিত হয়। দেখা গেছে, কোনো কারণে কারও মস্তিষ্কের আমিগডালা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার স্মৃতিতে আবেগময় স্মৃতি বেশি দিন সঞ্চিত থাকে না। তাই প্রেমাবেগের ব্যাপারটা শুধু হৃদয়ের না, মস্তিষ্কেরও।
চুম্বনে চোখ বন্ধ হয়ে আসে কেন?
চুম্বন যেমন হৃদয়গ্রাহী, তেমনি সুস্বাস্থ্যের প্রতীক। বিজ্ঞানীরা শুধু এ দুটি ব্যাপারেই সন্তুষ্ট নন। তাঁরা এর মধ্যে আরও কিছু বের করার চেষ্টা করে চলেছেন। চুম্বনের সময় কেন উভয়ের চোখ বন্ধ হয়ে আসে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণার শেষ নেই। তাঁরা দেখেছেন, চুম্বনের সময় দেহ-মনে যে আবেগের সঞ্চার হয়, তা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টার একটি প্রকাশ হলো চোখ বন্ধ করে কল্পনার জগতে নিজেকে ভাসিয়ে দেওয়া। এতে দুটি উপকার — একদিকে অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে, অন্যদিকে মনের আবেগের স্বাদও গ্রহণ করা যায়। অবশ্য অনেকের মতে, চুম্বনের সময় যেহেতু প্রেমিক-প্রেমিকার মুখ খুব কাছাকাছি চলে আসে, তাই একে অপরের পূর্ণ চেহারা দেখতে পারে না। তাদের হৃদয়ে প্রেমের মানুষটির যে সুন্দর চেহারাটা ভাসে, চুম্বনের সময় তা দেখা না গেলে তো আনন্দই মাটি! তাই চোখ বন্ধ করে কল্পনায় সৌন্দর্য উপলব্ধি করাই শ্রেয়।
ইন্টারনেটে বিয়েতে প্রেম কতটা টেকসই?
টিএসসিতে অথবা সিনেমা হলে হঠাৎ দুজনে দেখা, পছন্দ হয়ে গেল, তারপর গভীর প্রেম ও বিয়ে। এই সাবেকি পদ্ধতিতে একটা অসুবিধা আছে । আপনার বাবা-মা, বন্ধু বা অন্য কেউ সাবধান করবে, বারবার বলবে, বুঝেশুনে পছন্দ করো, যেন ভবিষ্যতে তোমরা সুখী হতে পারো ইত্যাদি । তাই মনে হতে পারে ইন্টারনেটে প্রেম ও বিয়েতে এসব ঝামেলা নেই। ইউরোপ-আমেরিকায় অনলাইনে বন্ধু বাছাইয়ের বেশ চল রয়েছে। ইন্টারনেট ডেট সাইট match.com-এ গেলে পাওয়া যাবে হাজার হাজার সম্ভাব্য বন্ধুর তালিকা । এত বিকল্পের মধ্য থেকে সঙ্গী বাছাই করার সমস্যা বেশ কঠিন। উপরন্তু, সে যে আপনার মনের মতো হবে, তার নিশ্চয়তা কী? আধুনিক সঙ্গী বাছাইয়ের সাইটগুলো দাবি করে, তারা বিজ্ঞানসম্মতভাবে পরীক্ষিত অ্যালগরিদম ব্যবহার করে। ফলে বাছাই হয় নিখুঁত। নিউ ইয়র্কের একটি প্রতিষ্ঠান বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করার জন্য ২০ হাজার ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে তাদের সম্পর্কের গভীরতা বোঝার চেষ্টা করেছে। দেখা গেছে, একই ধরনের ব্যক্তিসম্পন্ন জুটি অন্যদের চেয়ে বেশি সুখী। জুটি বাছাইয়ের এ কজটা করে কম্পিউটার। সমস্যাটা অন্য খানে। মানুষের মন খুব জটিল। আজ কাউকে যেসব বিবেচনায় ভালো লাগল, প্রেম হলো; কয়েক বছর পর সেই ধ্যানধারণা বদলাতে পারে। কিন্তু কম্পিউটারের তো আবেগ-অনুভূতি নেই। ইন্টারনেটে আপনি সর্বোত্তম সঙ্গী খুঁজে নিতে পারবেন, আপনার দাম্পত্য জীবন সুখীও হবে হয়তো। কিন্তু সেখানে প্রেম কত দিন টিকে থাকবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা মুশকিল।
ছেলেরা কেন মেয়েদের চেয়ে বেশি চঞ্চল ?
মেয়েরা ধীরস্থির ও বুদ্ধিমতী। সেই তুলনায় ছেলেরা খুব চঞ্চল ও বেপরোয়া। শুধু চালচলনেই নয়, সব ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ছেলেরা গড় মানের চেয়ে একদিকে যেমন খুব ভালো করে, অন্যদিকে খুব খারাপও করে। যেমন, গণিত পরীক্ষাDয় মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা খুব বেশি ভালো করে—এ রকম একটা কথা বেশ প্রচলিত। কিন্তু এটাও সত্য যে গণিত পরীক্ষায় খুব খারাপ করা ছেলের সংখ্যাও বেশি। বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, ছেলেদের বিভিন্নতা মেয়েদের চেয়ে বেশি। বিবর্তনের ধারার দিক থেকে এর একটি সম্ভাব্য কারণ ব্যাখ্যা করা। চলে। মানুষের আবির্ভাবের ঊষালগ্ন থেকেই মানব প্রজাতির বংশবৃদ্ধি ও টিকে থাকার জন্য মেয়েরা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যদি কিছু ছেলে তাদের বিভিন্নতার জন্য বাইরে ছিটকে পড়ে বা কোনো কারণে সন্তান জন্মদানে অক্ষম হয়ে পড়ে, তাতেও সমাজে মোট সন্তানের সংখ্যায় হয়তো পার্থক্য হবে না। কারণ, অন্য ছেলেরা হয়তো ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে । কিন্তু মেয়েদের মধ্যে খুব বেশি বিভিন্নতা সমাজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, মেয়েদের সংখ্যা যদি কমে যায়, তা হলে মানব প্রজাতির বংশ বৃদ্ধি কঠিন হয়ে পড়ে। অর্থাৎ জিনগত পরিবর্তনের কারণে ছেলেদের মধ্যে বেশি বিভিন্নতার বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তির মানবসমাজে টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি। কারণ, পরবর্তী প্রজন্মে তাদের জিনগত বৈশিষ্ট্য সঞ্চারিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
কেউ পা পিছলে পড়ে গেলে হাসি কেন?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিষয়ে স্নাতকোত্তর চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ। মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা হচ্ছে । একজন প্রবীণ রসিক পরীক্ষক শঙ্কিত পরীক্ষার্থীকে জিজ্ঞেস করলেন, “বিয়োগান্ত ও হাস্যরসাত্মক নাটকের মধ্যে পার্থক্য কী?' বাইরে বৃষ্টি হচ্ছিল। পরীক্ষার্থী এক মুহূর্ত চিন্তা না করে উত্তর দিলেন, 'স্যার, আপনি যদি এখন বাইরের ওই পিচ্ছিল পথে হাঁটতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে যান, সেটা হবে বিয়োগান্তক আর আমি পড়ে গেলে হবে হাস্যরসাত্ম ঘটনা!' কথাটা যে সত্য, সন্দেহ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একজন তরুণ পা পিছলে পড়ে গেলে অন্যরা কেন হাসিতে ফেটে পড়ে? এর কারণ ব্যাখ্যা করে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনস্তত্ত্ববিদ ও হাসি- গবেষক একজন অধ্যাপক বলেন, কেউ হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়ার সময় হাতের কাছে যা কিছু পান, তা ধরে নিজের পতন ঠেকাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তাঁর মস্তিষ্কের নিউরনগুলো এ সময় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। এ ঘটনা অন্য কেউ দেখলে তাঁর নিজের মস্তিষ্কে একধরনের আয়না-প্রতিফলন ঘটে। অন্যের পতন দেখে নিজের মস্তিষ্কের নিউরনগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে, যেন নিজেই পড়ে যাচ্ছেন । এটা দর্শকের মস্তিষ্কে সুড়সুড়ি দেয়, ফলে হাসি আসে। কিন্তু বয়স্ক কেউ পড়ে গেলে অন্যের মস্তিষ্কে সমবেদনাসূচক অনুভূতি সৃষ্ট হয়।
বিঃদ্রঃ উপরের তথ্যগুলো বিজ্ঞানের রাজ্যে শত প্রশ্ন বই থেকে নেওয়া। (পর্ব ৩) পর্ব ২
সংগ্রহীতঃ বই: বিজ্ঞানের রাজ্যে শত প্রশ্ন।
লেখক: আব্দুল কাইয়ুম
প্রকাশকাল: ২০১৩
সর্বশেষ প্রকাশ: ২০১৯
পরবর্তী আর্টিকেলে যা থাকছে-
☞ তেলাপোকা চিতপটাং হয় কেন?
☞ মশা মারা কঠিন কেন?
☞ মাথার উপর মশারা উড়ে কেন?
☞ কুকুরের লেজ সোজা হয় না কেন?
tag: বল, সরণ, কাজ, নিউরন, গণিত, গোলাপি জামা, ইন্টারনেট বিবাহ, চুম্বন, হাটাহাটি, কাজের সূত্র, বিয়োগান্ত



.jpg)
Thanks for comment.....!